ওয়ার্ডপ্রেস কি ? কে, কবে এই ওয়ার্ডপ্রেস তৈরি করেন ? ওয়ার্ডপ্রেসের সুবিধা সমূহ কি ?

ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা

ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে অনেকে জানেন আবার অনেকে জানেন না এবং যাদের ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে ধারনা আছে তারা ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে তাদের ওয়েবসাইটগুলো কারো সাহায্য ছাড়া নিজেরাই পরিচালনা করেন। যারা এই ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে কিছুই জানেন না তাদের জন্য আমার এই পোষ্টটা।

ওয়ার্ডপ্রেস

এক সময় ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে আমারও কোন ধারনা ছিলনা, তখন আমার একটা ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আমাকে অনেকের কাছে যেতে হয়েছে তার জন্য মোটা অংকের টাকাও গুনতে হয়েছে। পরে যখন ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে জানতে পারলাম এবং এই বিষয়ের উপর অনলাইনে অভিজ্ঞদের বিভিন্ন পোষ্ট পড়লাম তখন আমার একটু ধারনা হলো এই ধারনা কাজে লাগিয়ে নিজের ওয়েবসাইটা নিজে নিজে ওয়ার্ডপ্রেসে করে নিলাম। নিজের ওয়েবসাইটে কাজ করতে করতে এখন আমার মোটামুটি অভিজ্ঞতা হয়ছে। বর্তমানে বিভিন্ন বিষয়ের উপর ওয়ার্ডপ্রেসে করা আমার কয়েকটা ওয়েবসাইট রয়েছে। এগুলি আমি নিজেই তৈরি করেছি এবং নিজেই পরিচালনা করি এবং আমার কয়েক জন বন্ধুকে ওয়ার্ডপ্রেসের উপর ওয়েবসাইট তৈরি করে দিয়েছি। আপনারা যেই ওয়েবসাইটে এই পোস্টটি পড়ছেন, এটিও ওয়ার্ডপ্রেস দিয়েই করা। আপনারা চাইলে আমার অন্য ওয়েবসাইটগুলো ভিজিট করে দেখতে পারেন। আপনাদের দেখার সুবিধার জন্য নিচে লিংকগুলো দিয়েদিলাম। এখন থেকে আমি ওয়ার্ডপ্রেস উপর আমার অভিজ্ঞতাগুলো প্রতিনিয়ত নতুনদের শেখার জন্য শেয়ার করব। আশাকরি সঙ্গে থাকবেন।

knowpar.com
gkstudybook.com
sanatanbarta.com
srista.com
bsssonga.com

এবার আসি লেখার বিষয় সম্পর্কে। আজকে আমি ওয়ার্ডপ্রেস কি? কে কবে এই ওয়ার্ডপ্রেস তৈরি করেন? ওয়ার্ডপ্রেসের সুবিধা সমূহ নিয়ে কিছু ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করব।

ওয়ার্ডপ্রেস কি?

ওয়ার্ডপ্রেস হলো বর্তমানে সর্বাধিক ব্যবহৃত ও জনপ্রিয় ওয়েবসাইট পাবলিশিং অ্যাপলিকেশনস। সহজভাবে বলতে গেলে ওয়েবসাইটের কনটেন্ট ম্যানেজম্যান্ট সিষ্টেম। অর্থাৎ Content Management System (CMS), যা পিএইচপি এবং মাইএসকিউএল দ্বারা তৈরিকৃত ওপেন সোর্স ব্লগিং সফটওয়্যার। যা ব্যবহারকারীদের খুব সহজে প্রয়োজনিয় ওয়েবসাইট এবং ব্লগ তৈরি করতে সহায়তা করে। ওয়ার্ডপ্রেস প্রথম দিকে একটি ফ্রি ব্লগিং প্লাটফর্ম হিসাবে ছিল যা পরবর্তীকালে একটি অ্যাপলিকেশনস তৈরি করে এবং বিনামূল্যে তা ডাউনলোড করে যেকোনো ব্লগারকে ব্যবহারের সুবিধা দিতে শুরু করে। ওয়ার্ডপ্রেস দ্বারা কোনো প্রকার পিএইচপি, মাইএসকিউএল বা এইচটিএমএল জ্ঞান ছাড়াই খুব সহজে একটি প্রোফেশনাল মানের ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব। ওয়ার্ডপ্রেসে তৈরি করা দারুন এবং আকর্ষণীয় সাইটগুলি দেখতে আপনি ওয়ার্ডপ্রেস শোকেস ভিজিট করতে পারেন।

কে, কবে এই ওয়ার্ডপ্রেস তৈরি করেন?

ওয়ার্ডপ্রেস তৈরি করেন ম্যাট মুলেনওয়েগ। তিনি ২০০৩ সালের ২৭শে মে এটি প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করেন। জানুয়ারি ২০১২ইং পর্যন্ত ওয়ার্ডপ্রেস ৩.৪ সংস্করণ ৩ কোটিরও বেশিবার ডাউনলোড হয়েছিল। এটি একটি PHP ও MySQL দ্বারা তৈরি উন্মুক্ত প্রযুক্তি ব্লগিং সফটওয়্যার। বর্তমানে এটি সর্বাধিক জনপ্রিয় কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS), এবং বিশ্বের প্রথম সারির ৪০,০০,০০০টি ওয়েবসাইটের ১২% এটি ব্যবহার করে। টাইমস এর হিসাব মতে এখন সারা দুনিয়ায় প্রায় ৫৩ ভাগ ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে বানানো। তথ্য সুত্রঃ উইকিপিডিয়া

ওয়ার্ডপ্রেসের সুবিধা সমূহঃ

✬ওয়ার্ডপ্রেস একটি ওপেনসোর্স সিএমএস বিধায় এটি বিনামূল্যে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যায়।
✬ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারের জন্য কোনো প্রকার PHP এবং HTML জ্ঞানের দরকার হয়না। এতে রয়েছে সহজ এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেস, যা অদক্ষ ব্যবহারকারীও খুব সহজেই এটা ব্যবহার করে ব্লগিং ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন।
✬ ওয়ার্ডপ্রেসের রয়েছে অসংখ্য থিম এবং প্লাগিন এর ফ্রি ডাইরেক্টরি, যা ব্যবহারের মাধ্যমে খুব সহজেই ব্লগসাইট, বিজনেস সাইট, ই-কমার্স সাইট, বিভিন্ন ওয়েব এপ্লিকেশন সাইট সহ যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।
✬ ওয়ার্ডপ্রেসের রয়েছে অসাধারন একটি টেক্সট এডিটর যেখানে ইউজার একসাথে ভিজুয়াল এবং HTML ভিউতেই লিখতে পারেন। আরো রয়েছে বিল্ট-ইন মিডিয়া আপলোডার, যার মাধ্যমে খুব সহজেই লেখার মাঝে ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি যুক্ত করতে পারেন।
✬ ওয়ার্ডপ্রেসে রয়েছে ইউজার ফ্রেন্ডলি নেভিগেশন সিস্টেম। যা, একটি ওয়েবসাটকে করে তুলে সুন্দর এবং সহজ।
✬ ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে খুব সহজেই ওয়েবসাইটটিকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ সাইটের সাথে যুক্ত করা যায়। এতে বিশ্বের সাথে ওয়েবসাইটটি দ্রুততার সাথে পরিচিতি লাভ করে।
✬ ওয়ার্ডপ্রেস একটি সম্পূর্ণ এসইও ফ্রেন্ডলি CMS, এবং এর ব্যবহার প্রণালী খুবই সহজ, ফলে সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে ওয়েবসাইট থাকে এক ধাপ এগিয়ে।
✬ ওয়ার্ডপ্রেসে রয়েছে ইউআরএল স্ট্রাকচার নিয়ন্ত্রন করার ব্যবস্থা। যার ফলে এটাকে ইচ্ছামতো যেকোন তথ্য সহজেই পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন বা বিয়োজন করা যায়।

ওয়ার্ডপ্রেসের বৈশিষ্টগুলো এভাবে বলে শেষ করা যাবেনা। ব্যবহার করলেই বুঝতে পারা যায় এটি কতটা আধুনিকায়ন একটি সহজ এবং নিরাপদ কন্টেন্ট মেনেনেজমেন্ট সিস্টেম। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ওয়ার্ডপ্রেস প্রায় প্রতি বছরই বড় ধরনের আপডেট নিয়ে আসে। তাছাড়া ওয়ার্ডপ্রেসের প্রতিনিয়তই ছোট ছোট আপডেট থাকে। যার ফলে ব্যবহারকারীরা প্রতিনিয়তই এই সুবিধাগুলো উপোভোগ করে থাকে।

আজ এই পর্যন্ত, আমার পরবর্তি পোষ্টটা হবে ওয়ার্ডপ্রেস কিভাবে সেটিং করবেন এবং এর ইন্টারফেস পরিচিতি। আজকের পোষ্টটা আপনার যদি ভালো লাগে তাহলে দয়াকরে অন্যের সাথে শেয়ার করুন এবং নিয়মিত পোষ্ট পেতে পেইজবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply